ভারতের গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ কিছু মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কেন প্রশ্নচিহ্নের মুখে?

দীপশিখা ব্যানার্জী, মোটিভেটর এনিটাইম - ভারতের চলচ্চিত্র জগতের মেগাস্টার শাহরুখ খান এর জ্যেষ্ঠপুত্র ড্রাগ সেবন ও পাচারের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে প্রায় 15 দিন হাজতবাস করেছেন.
 শাহরুখ পুত্র আরিয়ান তার বন্ধুদের সঙ্গে ড্রাগ সেবনে অভিযুক্ত হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জেলে গেছেন.
 আরিয়ান যে কয়দিন জেলে ছিলেন ভারতবর্ষের সমস্ত মিডিয়া চ্যানেলে তার খবর সম্প্রচারিত হয়েছে. অপরাধ করে জেলে যাওয়ার পরও এভাবে ভিডিও কভারেজ পাওয়া যায় ভারতবর্ষ এটাই প্রথম দেখলো. সঞ্জয় দত্ত অপরাধ করে জেল খেটেছেন. তার বাবা এবং দিদি  লোকসভার সাংসদ ছিলেন.  কিন্তু তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেল খেটেছেন. তখন কিন্তু সঞ্জয় দত্ত এতটা মিডিয়া কভারেজ পাননি. যেটা আজকে পেয়ে গেলেন কিং খানের ছেলে আরিয়ান খান. ভারতবর্ষের মিডিয়া এটাকে এমনভাবে প্রচার করেছে মনে হচ্ছে আরিয়ান খান নির্দোষ.
আরিয়ান খান জামিন পাওয়ার পর দেশের কিছু মিডিয়া এটাকে এমন ভাবে দেখাতে শুরু করেছে মনে হচ্ছে তিনি দেশের জন্য নোবেল পেয়েছেন. আর জামিনের বেলবন্ডে স্বাক্ষর  করেছেন বোম্বের স্বনামধন্য অভিনেত্রী  জুহি চাওলা.

দেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন চিহ্ন  জাগতে শুরু করেছে দেশের ধনী লোকদের একরকম আইন ও গরীব মানুষের জন্য আরেকরকম আইন. সেলিব্রিটিরা যতই অপরাধ করুক তাদের বিচার প্রক্রিয়া অন্য প্রকারের হয়ে থাকে ভারতবর্ষে. আর গরিব মানুষ অপরাধ করলে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতেই কয়েক বছর লেগে যায়. আর যেটা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক ব্যাপার হয়ে উঠে আসছে.

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন চিহ্ন জাগতে শুরু করেছে কেনতারা সিনেমার নায়ক নায়িকাদের দেশের সেলিব্রিটি বানাবেন. যারা অপরাধ জগতের  সঙ্গে যুক্ত থাকে দেশদ্রোহী কথাবার্তা বলেন এবং দেশদ্রোহী কাজকর্ম করেন তাদেরকেই মিডিয়া দেশের প্রকৃত নায়ক  বানাতে শুরু করেছে. কিন্তু এটা প্রকৃতপক্ষে দেশের নায়ক নয়.

বোম্বের সিনেমা জগৎ পাকিস্তানি ইশারায় চলে. পাকিস্তান অর্থ দিয়ে বোম্বে ফিল্ম জগতের তিন খানকে এদেশের মিডিয়া কভারেজ পেতে সাহায্য করে. পাকিস্তানের আইএসআই চর হিসাবে বোম্বে ফিল্ম জগতে অনেক নায়ক-নায়িকা আছেন. সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয় তিন খান.

সূত্রের খবর, শাহরুখ খানকে কিং খান তৈরি করতে পাকিস্তানের আইএসআই এর প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে বোম্বে ফিল্ম জগতে. শাহরুখ খানের পরপর তিন থেকে চারটি সিনেমায় যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছিল তার সিংহভাগ এসেছিল পাকিস্তান থেকে. শাহরুখ খানের প্রথম সিনেমা বাজিগর যে এত হিট হয়েছিল তার পিছনে ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এর হাত. বিভিন্ন টিভি চ্যানেলকে টাকা দেওয়া হয়েছিল এই সিনেমার নায়ক শাহরুখ খানের প্রচার করতে.

শাহরুখ খানের দ্বিতীয় ফিল্ম দিওয়ানা. সুপার ডুপার হিট হয়েছিল. কিন্তু এই ফিল্মে শাহরুখ খান ছিলেন সহ-অভিনেতা. এই ফিল্মি নায়ক ছিলেন ঋষি কাপুর. কিন্তু তারপরেও শাহরুখ খানকে এই ফিল্মে এতটা কভারেজ দিয়েছিল মিডিয়া রাতারাতি কিংখান এ পরিণত হয়েছিলেন. দিলবালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ফিল্মে শাহরুখ খানকে স্পন্সর করেছিলেন পুরোপুরি পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই. একজন ভারতীয় প্রযোজক কে সামনে রেখে পুরোটাই আইএসআই দিয়েছিল. যদিও এই ফিল্মে শাহরুখ খান অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন.

বোম্বে ফিল্ম জগতে ইতিমধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে শাহরুখ খানকে নিয়ে. যারা ক্রিকেটে জুয়া খেলেন এমন বড় বড় জুয়াড়ি সঙ্গে শাহরুখ খানের গভীর সম্পর্কের কথা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসে গেছে. এক কথায় বলতে গেলে শাহরুখ খানের সাফল্যের পিছনে পাকিস্তানের আইএসআই সংস্থার হাত রয়েছে.

আরিয়ান খান এর ড্রাগ কান্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই  শাহরুখ খানের অনেক অজানা রহস্য বোম্বে ফিল্ম জগতে ঘোরাঘুরি করছে. এতদিন ভারতের মানুষ জানতে পারেনি. এমনকি শাহরুখ খান যিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স  ক্রিকেট টিমের মালিক হয়েছেন তার পিছনে পরোক্ষভাবে 
পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এর হাত ছিল.
 এখন তো দেখা যাচ্ছে পুরো বোম্বে ফিল্ম জগতকেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করে পাকিস্তান এবং তাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই.

তবে 2014 সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বোম্বে ফিল্ম জগতের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে গেছে পাকিস্তানী গুপ্তচর  সংস্থা আইএসআইয়ের. দিব্যা ভারতীর আকস্মিক মৃত্যুর পিছনে ছিল আইএসআইয়ের হাত. ক্রিকেট জুয়া খেলার প্রচলন প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক. দিব্যা ভারতীর মৃত্যু সেই সময় অনেক দোষীকে আড়াল করে দিয়েছিল. বোম্বে ফিল্ম জগতের মধ্যে আজকে যারা নায়ক হিসেবে কাজ করছে. ভারত সরকারের উচিত বোম্বে ফিল্ম জগতে যারা প্রযোজক এবং পরিচালক আছেন কাদের পিছনে গুপ্তচর সংস্থা কে লাগানো.
 সমস্ত তথ্য বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘোরাঘুরি করছে. আরিয়ান খান গ্রেফতার হওয়ার পর তার বাবা কিং খানের  কীর্তিকলাপও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে.

এই সমস্ত তথ্য মিডিয়ার কাছে থাকার পরেও কিছু মিডিয়ায় এমন ভাবে কিং খান এবং তার ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টায় নেমে পড়েছে তাতে দেশের সাধারণ মানুষ ডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে.যদিও সমস্ত মিডিয়াকে এই পর্যায়ে নামানোর পক্ষপাতী না দেশের সাধারণ মানুষ. কিছু মিডিয়ার অতিরিক্ত তোষণবাজি পুরো মিডিয়া জগত কে কলঙ্কিত করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে.

Comments